সনেট পঞ্চাশৎ কার রচনা?
সনেট পঞ্চাশৎ কার রচনা?
-
ক
মহাকবি আলাউল
-
খ
আব্দুল কাদির
-
গ
প্রমথ চৌধুরী
-
ঘ
মাইকেল মধুসূদন দত্ত
সনেট পঞ্চাশৎ কাব্যগ্রন্থটির রচয়িতা হলেন প্রমথ চৌধুরী।
ব্যাখ্যা: ১৯১৩ সালে প্রকাশিত প্রমথ চৌধুরীর এই বিখ্যাত কাব্যগ্রন্থটিতে পঞ্চাশটি সনেট বা চতুর্দশপদী কবিতা সংকলিত হয়েছে ।
দ্রষ্টব্য: বাংলা সাহিত্যে সনেটের প্রবর্তক মাইকেল মধুসূদন দত্ত হলেও, 'সনেট পঞ্চাশৎ' গ্রন্থটি প্রমথ চৌধুরীর রচনা
প্রমথ চৌধুরী (১৮৬৮-১৯৪৬)
বাংলা গদ্যে চলিত রীতির প্রবর্তক ও বিদ্রূপাত্মক প্রাবন্ধিক প্রমথ চৌধুরী। তীক্ষ্ণ মননশীলতা, বাকচাতুর্যের চমৎকারিত্ব এবং বুদ্ধির অসিচালনা ছিল তাঁর ভাষাগত বিশেষত্ব। তিনি ১৮৯৯ সালে রবীন্দ্রনাথের অগ্রজ বাংলা প্রথম সিভিলিয়ান সত্যেন্দ্রনাথ ঠাকুরের মেয়ে ইন্দিরা দেবীকে বিয়ে করেন। তিনি রবীন্দ্রনাথকে বাংলা গদ্যে চলিত রীতি ব্যবহারে উদ্বুদ্ধ করেন।
- প্রমথ চৌধুরী ৭ আগস্ট, ১৮৬৮ সালে যশোরে জন্মগ্রহণ করেন। পৈতৃক নিবাস- পাবনা জেলার চাটমোহর উপজেলার হরিপুর গ্রাম।
- তাকে বলা হয় বাংলা গদ্যে চলিত রীতির প্রবর্তক ও বিদ্রূপাত্মক প্রাবন্ধিক।
- প্রমথ চৌধুরীর সাহিত্যিক ছদ্মনাম-বীরবল।
- প্রমথ চৌধুরীর প্রথম প্রবন্ধ 'জয়দেব' ১৮৯৩ সালে 'সাধনা' পত্রিকায় প্রকাশিত হয়।
- 'হালখাতা' ('ভারতী' পত্রিকায় প্রকাশ- ১৯০২), এ গদ্য /প্রবন্ধ রচনায় তিনি প্রথম চলিত রীতির প্রয়োগ ঘটান।বাংলা কা
- ব্যে তিনিই প্রথম ইতালীয় সনেটের প্রবর্তন করেন।
- তিনি 'সবুজপত্র' (১৯১৪), 'বিশ্বভারতী পত্রিকা' সম্পাদনা করেন।
- তিনি কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ১৯৩৮ সালে জগত্তারিণী স্বর্ণপদক লাভ করেন। উল্লেখ্য, স্যার আশুতোষ মুখোপাধ্যায় নিজ মাতার নামে এ পদক প্রবর্তন করেন।
- তিনি ২ সেপ্টেম্বর, ১৯৪৬ সালে (১৬ ভাদ্র, ১৩৫৩ বঙ্গাব্দ) শান্তিনিকেতনে মারা যান।
চলিত রীতিতে রচিত তাঁর প্রথম গদ্যরচনাঃ
'হালখাতা' (১৯০২): এটি 'ভারতী' পত্রিকায় প্রথম প্রকাশিত হয়। [বাজারের অধিকাংশ বইয়ে লেখা যে, চলিত ভাষায় রচিত প্রমথ চৌধুরীর প্রথম গ্রন্থ 'বীরবলের হালখাতা'। প্রকৃতপক্ষে এটি হবে 'হালখাতা'। কারণ, 'বীরবলের হালখাতা' প্রবন্ধগ্রন্থ প্রকাশিত হয় ১৯১৬ সালে আর 'হালখাতা' গদ্যগ্রন্থ প্রকাশিত হয় ১৯০২ সালে। (সূত্র: বাংলা একাডেমি চরিতাভিধান)]। উল্লেখ্য, চলিত ভাষায় রচিত প্রথম গ্রন্থ কোনটি? এ প্রশ্নের উত্তরের অপশনে 'হালখাতা' না থাকলে 'বীরবলের হালখাতা' উত্তর দিতে হবে। কারণ, অধিকাংশ প্রশ্নকর্তা বিগত সালের পরীক্ষায় আসা প্রশ্নগুলো নতুন প্রশ্নে অপশনসহ হুবহু তুলে দেয়।
প্রমথ চৌধুরী রচিত অন্যান্য সাহিত্যকর্মগুলো:
প্রবন্ধগ্রন্থ: 'তেল-নুন-লড়ি' (১৯০৬), 'বীরবলের হালখাতা' (১৯১৬), 'নানাকথা' (১৯১৯), 'আমাদের শিক্ষা' (১৯২০), 'রায়তের কথা' (১৯২৬), 'নানাচর্চা' (১৯৩২), 'আত্মকথা' (১৯৪৬), 'প্রবন্ধ সংগ্রহ' (১ম খণ্ড- ১৯৫২, ২য় খণ্ড- ১৯৫৩)।
কাব্যগ্রন্থ: 'সনেট পঞ্চাশৎ' (১৯১৩), 'পদচারণ' (১৯১৯)।
গল্পগ্রন্থ: 'চার ইয়ারি কথা' (১৯১৬), 'আহুতি' (১৯১৯), 'নীললোহিত ও গল্পসংগ্রহ' (১৯৪১)।
প্রবন্ধ: 'যৌবনে দাও রাজটীকা', 'বই পড়া', 'সাহিত্যে খেলা', 'ভাষার কথা'।
'বই পড়া' ও 'সাহিত্যে খেলা' প্রবন্ধ ২টি অবশ্যই পড়তে হবে। কারণ, এ দুটি প্রবন্ধ থেকে বিভিন্ন পরীক্ষায় প্রশ্ন আসে।
বিখ্যাত উক্তি
| বই পড়া | আমরা সাহিত্যের রস উপভোগ করতে প্রস্তুত নই; কিন্তু শিক্ষার ফল লাভের জন্য আমরা সকলে উদ্বাহু। |
| ব্যাধিই সংক্রামক, স্বাস্থ্য নয়। | |
| জ্ঞানের ভান্ডার যে ধনের ভান্ডার নয়, এ সত্য তো প্রত্যক্ষ। | |
| যে জাতির জ্ঞানের ভান্ডার শূন্য সে জাতির ধনের ভাঁড়েও ভবানী। | |
| সাহিত্যের মধ্যেই আমাদের জাত মানুষ হবে। | |
| সুশিক্ষিত লোক মাত্রই স্বশিক্ষিত। | |
| দেহের মৃত্যুর রেজিস্টারি রাখা হয়, আত্মার মৃত্যুর হয় না। | |
| আমি লাইব্রেরিকে স্কুল-কলেজের ওপরে স্থান দিই। লাইব্রেরি হচ্ছে একরকম মনের হাসপাতাল। |
| খেলা সাহিত্যে | যিনি গড়তে জানেন, তিনি শিবও গড়তে পারেন বাঁদরও গড়তে পারেন। |
| মন উচুতেও উঠতে চায়, নিচুতেও নামতে চায়। | |
| শিল্পরাজ্যে খেলা করবার প্রবৃত্তির ন্যায় অধিকারও বড়ো-ছোটো সকলেরই সমান আছে। | |
| এ পৃথিবীতে একমাত্র খেলার ময়দানে ব্রাহ্মণ শূদ্রের প্রভেদ নেই। | |
| যে খেলার ভিতর আনন্দ নেই কিন্তু উপরি-পাওনার আশা আছে, তার নাম খেলা নয়, জুয়াখেলা। | |
| গীতের মর্মও বোঝেন না, গীতার ধর্মও বোঝেন না।। | |
| সাহিত্যের উদ্দেশ্য সকলকে আনন্দ দেওয়া, কারো মনোরঞ্জন করা নয়। | |
| কাব্যজগতে যার নাম আনন্দ, তারই নাম বেদনা। | |
| কবির নিজের মনের পরিপূর্ণতা হতেই সাহিত্যের উৎপত্তি। | |
| সাহিত্য ছেলের হাতের খেলনাও নয়, গুরুর হাতের বেতও নয়। |
| ভাষার কথা | ভাষা মানুষের মুখ থেকে কলমের মুখে আসে, উল্টোটা করতে গেলে মুখে শুধু কালি পড়ে। |
Related Question
View All'সুশিক্ষিত লোক মাত্রই স্বশিক্ষিত' এই উক্তিটি কার?
-
ক
রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
-
খ
কাজী আবদুল ওদুদ
-
গ
মোহাম্মদ লুৎফর রহমান
-
ঘ
প্রমথ চৌধুরী
'বীরবল' কার ছদ্মনাম?
-
ক
রাজ শেখর বসু
-
খ
হুমায়ুন আহমেদ
-
গ
প্রমথ চৌধুরী
-
ঘ
আনোয়ার পাশা
বাংলা ভাষায় চলিত রীতির প্রবর্তক কে?
-
ক
ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর
-
খ
বঙ্গিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
-
গ
প্রমথ চৌধুরী
-
ঘ
রাজা রামমোহন রায়
"সুশিক্ষিত লোক মাত্রই স্বশিক্ষিত" এ উক্তিটি কার?
-
ক
রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
-
খ
কাজী নজরুল ইসলাম
-
গ
প্রমথ চৌধুরী
-
ঘ
শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
প্রমথ চৌধুরীর মতে সাহিত্যের প্রধান উদ্দেশ্য হচ্ছে-
-
ক
দৈনন্দিন জীবনের বন্দনা
-
খ
বিশেষ সামাজিক উদ্দেশ্য সাধন
-
গ
মানুষের মনোজগৎ জাগিয়ে তোলা
-
ঘ
লোককে সামাজিক ও নৈতিক শিক্ষা দেয়া
প্রমথ চৌধুরীর মতে যৌবনকে এদেশের মানুষ ভয় পায়, কারণ-
-
ক
যৌবন প্রকৃতি বিরুদ্ধ
-
খ
যৌবন মানব জীবনে বিরাট এক ফাঁড়া
-
গ
যৌবন শাসনযোগ্য নয়
-
ঘ
যৌবনের অন্তরে শক্তি আছে
১ ক্লিকে প্রশ্ন, শীট, সাজেশন ও
অনলাইন পরীক্ষা তৈরির সফটওয়্যার!
শুধু প্রশ্ন সিলেক্ট করুন — প্রশ্নপত্র অটোমেটিক তৈরি!
Related Question
Question Analytics
মোট উত্তরদাতা
জন